১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সোমবার | বর্ষাকাল | সকাল ৯:২৮
সংবাদ শিরোনামঃ
ভেড়ামারায় ‘মাদককে না’ বলে যুবদের মাঝে ফুটবল বিতরণ ঢাকাস্থ ভেড়ামারা সমিতির সদস্যদের জন্য সিমেক হেলথে অর্ধেক ছাড় ভেড়ামারা শহরের যানজট নিরসনে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। কুষ্টিয়া-২ আসনের এমপি আব্দুল গফুরের উদ্যোগে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি / নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে ভেড়ামারার ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম/ পরিদর্শনে জামায়াত নেতৃবৃন্দ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ছিনতাইয়ের শিকার ডিম ব্যবসায়ীকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা প্রদান । রাজপথের লড়াকু সৈনিক মানবতার সেবক ভেড়ামারার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এসএস. আল হুসাইন সোহাগ কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে হিমেল সীমান্ত ও ঈগল এক্সপ্রেসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক কুষ্টিয়া কৃষ্টির ষষ্ঠ সংখ্যা মোড়ক উন্মোচন/ কৃতি সাঁতারুদের নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের উদ্যোগ! ভেড়ামারায় অসহায়, দুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী উপহার দিল শিশু তাহমিদ ফাউন্ডেশন

“রমযানের ফাজাইল ও মাসাইল”

শায়খ হাসান মুরাদ :
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হল রোযা। রমযানুল মুবারক মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। রমযান বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ মাস। এ মাস পবিত্রতা অর্জনের মাস। এ মাস নেকী অর্জনের মাস। এ মাস আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের মাস। সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ আসমানী মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল হয়েছে রমযান মাসে। কুরআন মাজীদে এরশাদ হয়েছে : রমযান হল, সে মাস, যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে যা মানুষের জন্য হেদায়েত। (সূরা বাকারা- ১৮৫)।
রমযানের রোযা ফরয :
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
হে ইমানদারগণ! তোমাদের উপর (রমযানের) রোযা ফরয করা হয়েছে। যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পারো।(সূরা বাকারা- ১৮৩)
এই আয়াতে ৩টি বিষয় উল্লেখ হয়েছে: (১) রমযানের রোযা ফরয (২) রমযানের রোযা পূর্ববর্তী সকলের উপরে ফরয ছিল। (৩) রোযার উদ্দেশ্য হল মুত্তাকী হওয়া।
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, বনী আদমের প্রত্যেক নেক আমলের সওয়াব বাড়িয়ে দেওয়া হয় দশ গুণ হতে সাতশত গুণ পর্যন্ত। আল্লাহ তা’আলা বলেন: রোযা ব্যতীত, কেননা নিশ্চয় রোযা আমার জন্য আর এর প্রতিদান আমিই দিবো, সে আমারই জন্য তার নফসের চাহিদা পূরণ এবং পানাহার থেকে বিরত থেকেছে। (সহীহ মুসলিম হা. ১৬৪)
রোযার কিছু ফজিলত :
১. রোযাদারের জন্য দুটি আনন্দ:
হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সা. ইরশাদ করেন: রোযাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে, যার ফলে সে আনন্দিত হয়। একটি যখন সে ইফতার করে হয়, আরেকটি আনন্দ হল যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সে (বিশাল পুরষ্কার পেয়ে) আনন্দিত হবে। (বুখারী- হা. ১৯০৪)
আব্দুল্লাহ বিন হযরত আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

২.নিশ্চয় রোযাদারের জন্য তার ইফতারের সময় একটি দোয়া এমন রয়েছে যা ফেরৎ দেওয়া হয় না (অর্থাৎ একটি অবশ্যই কবুল হয়)। (সুনানে ইবনেমাযাহ-হা. ১৭)
৩.ইফতার করানোর ফযিলত:
হযরত যায়েদ বিন খালেদ যুহানি রা.
থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন,
যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করায় তার জন্য ঐ রোযাদারের সমান সওয়াব হয়। ঐ রোযাদারের সওয়াব থেকে কোন প্রকার কম করা হয় না। (জামে তিরমিযী- হা.৮০৭)

৩.রোযা ও কুরআন সুপারিশ করবে:
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা ইরশাদ করেন:
কিয়ামতের দিন রোযা ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে হে আমার রব! আমি তাকে দিনে পানাহার ও নফসের চাহিদা পূরণ থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আপনি আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে , আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আপনি আমার সুপারিশ কবুল করুন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: তখন তাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে। (মুসতাদরাকে হাকেম- হা. ২০৩৬,মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৩/৩১৮, হা.৫০৮১)
৪.রমযানে উমরা পালনের ফযিলত:
হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা . ইরশাদ করেছেন।
নিশ্চয় রমযান মাসে একটা উমরা একটা হজে¦র সমতুল্য। (সহীহ মুসলিম হা. ২২১)
৫.ইফতারের সময় মুক্তির ফয়সালা:
হযরত জাবের বিন আব্দুল্ল্াহ রা. থেকে বর্ণিত রাসূল সা. ইরশাদ করেন
নিশ্চয় প্রত্যেক ইফতারের সময় আল্লাহ তাআলা অসংখ্য মানুষের মুক্তির ফয়সালা করে থাকেন। আর এটা রমযানের প্রতি রাতে হয়ে যায়। (ইবনে মাযাহ- ১৬৪৩)
৬.রোযাদারের মুখের ঘ্রাণ মেশকের সুগন্ধির চেয়ে উত্তম:
হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন
ঐ সত্ত্বার কসম যার হাতে আমার জীবন, নিশ্চয় রোযাদারের (পানাহার মুক্ত থাকার কারণে) মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের সুগন্ধি অপেক্ষা অধিক পছন্দনীয়। ( বুখারী হা. ১৮৯৪)
৭. রোযাদারের জন্য জান্নাতে রায়য়ান নামক স্পেশাল শাহী গেট:
হযরত সাহাল বিন সায়াদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয় জান্নাতে রায়য়ান নামক একটি গেট রয়েছে। কেয়ামতের দিন যে গেট দিয়ে রোযাদারগণ প্রবেশ করবে। তা ছাড়া অন্য কেউ সে গেট দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারী ১/২৫৪ হা. ১৮৯৬, মুসলিম হা. ১১৫২)

৮.একটি ফরয ৭০ ফরযের সমতুল্য:
হযরত সালমান ফারসি রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন,
রমযান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল, সে ঐ ব্যক্তির মত যে অন্য মাসে একটি ফরয আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরয আদায় করল, সে ঐ ব্যক্তির মত যে অন্য মাসে সত্তরটি ফরয আদায় করল। (শুয়াবুল ঈমান-৩/৩০৫,৩৬০৮,সহীহ ইবনে খুযায়মা: ২/৯১১, হা. ১৮৮৭) হাদিসের সনদ যদিও দূর্বল তবে ফজিলতের জন্য গ্রহণীয়।

রোযার কিছু মাসআলা:
হযরত ফুযাইল ইবনে আয়াজ রহ. বলেন, যে আমল তোমার উপর ফরজ করা হয়েছে তার ইলম অন্বেষণ করাও তোমার উপর ফরজ।(মাআলিমুস সুনান, ৪/১৮৬) অতএব, প্রত্যেক সচেতন ও দায়িত্বশীল মুমিনের জন্য করণীয় হলো, তিনি রোযার সকল মাসায়েল জেনে সঠিকভাবে রোযাগুলো পূর্ণ করবেন। শুধু রোযাই নয় ইসলামের প্রতিটি বিষয়ে আমরা মাসালা জেনে আমল করব। শরয়ী ওযর ছাড়া সামন্য কারণে অজ্ঞতাবশত কোন রোযা ভেঙ্গে ফেললে এর ক্ষতিপূরণ কোন আমলের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“কেউ যদি বিনা ওযরে একটি রোযা ভেঙ্গে ফেলে তাহলে পূর্ণ এক বছর রোযা রাখলেও তার সমান হবে না।” (জামে তিরমিযী, হা. ৭২৩)
রোযার সংজ্ঞা:
রোযার নিয়তে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য, পানীয় ও স্ত্রী সহবাস ও রোযা ভঙ্গকারী সকল প্রকার কাজ থেকে বিরত থাকাকে রোযা বলা হয়। (তাফসীরে কুরতুবী সূরা বাকারা, আয়াত- ১৮৩)

মাসআলা:১. নিয়ত করা ফরজ। নিয়ত অর্থ সংকল্প। তাই মনে মনে এ সংকল্প করবে যে, আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রোযা রাখছি। ফরজ রোযার নিয়ত রাতে করাই উত্তম। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন,
“যে সুবহে সাদিকের পূর্বে রোযার নিয়ত করলো না তার রোযা (পরিপূর্ণ) হবে না।” (জামে তিরমিযী, হা: ৭৩০)
তবে রাতে নিয়ত করতে না পারলে ঐ দিন সূর্য ঢলার প্রায় এক ঘন্টা আগে নিয়ত করলে রোযা সহীহ হয়ে যাবে। (সহীহ বুখারী, হা. ২০০৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৩৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৬)
মাসআালা: ২. পুরো রমযানের জন্য একত্রে একবার নিয়ত যথেষ্ট নয়। বরং প্রতিটি রোযার জন্য পৃথক পৃথকভাবে নিয়ত করতে হবে। কারণ প্রতিটি রোযা আলাদা আলাদা আমল। (মাবসূতে সারাখসী ৩/৬০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৫)
যে সকল কারণে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং কাযা ও কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে:
মাসআলা: ৩ কেউ যদি স্বেচ্ছায় খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করে অথবা স্ত্রী সহবাস করে তাহলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। পরে এ রোযার কাযা ও কাফ্ফারা আদায় করতে হবে। (সহীহ বুখারী- হা. ৬৭০৯)
মাসআলা: ৪. সিগারেট, বিড়ি পান করলেও রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে কাযা ও কাফ্ফারা উভয়টি আদায় করতে হবে। (মারাকিউল ফালাহ, ত¦হতায়ী, পৃ: ৩৬১; রদ্দুল মুহতার ২/৩৫৯; ৩/৩৮৫)
মাসআলা: ৫. সুবহে সাদিক হয়ে গেছে জানা সত্তে¦ও আযান শোনা যায়নি বা এখনো ভালোভাবে আলো ছড়ায়নি এ ধরনের ভিত্তিহীন অজুহাতে পানাহার করলে বা স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হলে কাযা কাফ্ফারা উভয়টি আদায় করতে হবে। (সূরা বাকারা: ১৮৭; মাআরিফুল কুরআন ১/৪৫৪-৪৫৫)
মাসআলা: ৬. কুলি করার পর মুখে লেগে থাকা আদ্রতা বা ভেজাভাব পানির হুকুুমে নয়। সুতরাং কুলির পর থুতুর সাথে তা গিলে ফেললে রোজার কোন ক্ষতি হবে না। আর এই আদ্রতা দুর করার জন্য বারবার থুতু ফেলার প্রয়োজন নেই এটা অহেতুক কাজ। থুতু গিলে নিলে রোজা নষ্ট হয় না। বুখারী ১/২৫৯, ফাতহুল কাদীর: ২/২৫৮
মাসআলা: ৫.
রোযার কিছু আধুনিক মাসআলা:
যে সকল কারণে রোযা ভেঙ্গে যাবে এবং শুধু কাযা করতে হবে:
(১) ইনহেলার (ওহযধষবৎ): রোযা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। কেননা এক্ষেত্রে তরল জাতীয় ঔষধ বাস্পে রূপান্তর হয়ে গলা দিয়ে পাকস্থলিতে প্রবেশ করে। (যদিও ডাক্তারদের মতানুসারে এই মেডিসিন ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং পাকস্থলিতে প্রবেশ করে না বললেই চলে, তবুও রোযা ভেঙ্গে যাবে। কেননা ফুসফুস পেটের মধ্যেরই একটি অঙ্গ)। সুতরাং সাহরীর শেষ সময় ও ইফতারের পর ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু অসুস্থতা বেশি হলে দিনেও ব্যবহার করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। তবে সেদিন দিনের বেলা পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে। পরে উক্ত রোযার শুধু কাযা করতে হবে। (সূরা বাকারা: ১৮৪; মাজমাউল আনহুর ১/৩৬৬; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫;কিতাবুন নাওয়াযিল ৬/৩৮৬)
(২)অক্সিজেন(ঙীুমবহ): ঔষধ মিশ্রিত অক্সিজেন ব্যবহার করলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। তবে শুধু বাতাসের অক্সিজেন নিলে রোযা ভাঙ্গবে না। (মাজমাউল আনহুর১/৩৬৬;রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫)
(৩)‘ন্যাসোভ্যাপ’ নামে পরিচিত কাশি, সর্দি ও বন্ধ নাক উপশম করতে মেনথল জাতীয় এক প্রকার মেডিসিন, যা গরম পানিতে ঢেলে মুখ ও নাক দিয়ে টেনে ভাপ নেওয়া হয়, এর দ্বারা রোযা ভেঙ্গে যাবে। কেননা পানির সাথে উক্ত মেডিসিন বাস্পাকারে পাকস্থলিতে পোঁছে যায়। (মারাকিউল ফালাহ, পৃ: ৬৬০; কিতাবুন নাওয়াযিল ৬/৩৮৭)
(৪) কানে তরল জাতীয় কোন ঔষধ নিলে রোযা নষ্ট হবে না। যদিও পূর্বের ফুকাহায়ে কেরামের মতে মুখ, নাক ও কানকে পেটে কোন কিছু প্রবেশের স্বাভাবিক পথ হিসেবে গণ্য করেন। কিন্তুআধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে কান,কান গলার মাঝ সরাসরি কোন সংজোগ নেই। তাই রোজ কানে তলে,পানি, ওষধ গেলে রোজ নষ্ট হবে না।(মুফতিরাতুস সাওম ফি মাজালিত তদাওয়ী, মাজাল্লাতু মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী: সংখ্যা ১০)
(৫) ঢুস ব্যবহার করা: ঢুস ব্যবহার করলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। (রদ্দুল মুহতার ২/৪০২)
৬.এন্ডোস্কপি(ঊহফড়ংপড়ঢ়ু):মাইক্রো ক্যামেরা সম্বলিত চিকন একটি পাইপ রোগীর পাকস্থলিতে প্রবেশ করিয়ে পেটের অবস্থা পরীক্ষা করাকে এন্ডোস্কপি বলে। এ নলে যদি ঔষধ ব্যবহার করা হয় বা পাইপের মাধ্যমে পেটে পানি ছিটানো হয় তাহলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। অন্যথায় রোযা বহাল থাকবে। ( ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৪)
(৭) প্রক্টোস্কপি (চৎড়পঃড়ংপড়ঢ়ু): জেলিযুক্ত নল পায়খানার দ্বারে প্রবেশ করিয়ে পাইলস বা অশর্^ জাতীয় রোগের পরীক্ষা করাকে প্রক্টোস্কপি বলে। এর দ্বারা রোযা ভেঙ্গে যাবে। (রদ্দুল মুহতার ৩/৩৬৯; হিন্দিয়া ১/২০৪)
(৮)লেপারোস্কপি (খধঢ়ধৎড়ংপড়ঢ়ু): লেপারোস্কপি মূলত অপারেশনের আধুনিক পদ্ধতির নাম। যে পন্থায় কাটা-ছেঁড়া না করে মেশিনের সাহায্যে সূক্ষè ছিদ্র করে অপারেশন করা হয়। রোযা অবস্থায় যেকোন অপারেশন না করা উচিৎ। তবে প্রয়োজন হলে করার অনুমতি আছে। কিন্তু অপারেশন পেটের আয়তনের মধ্যে হলে এবং মেশিনে কোন জেলি বা মেডিসিন লাগানো থাকলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেশিনে ঔষধ লাগানো থাকে। ( বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪৩)
যে সকল কারণে রোযা ভঙ্গ হয় না:
১.ইনজেকশন (ওহলবপঃরড়হ): ইনজেকশন নিলে রোযা ভাঙ্গবে না; চাই ইনজেকশনের মাধ্যমে রক্ত নেয়া হোক বা স্যালাইন কিংবা টিকা নেওয়া হোক বা ইনসুলিন; কোন অবস্থাতেই রোযা ভঙ্গ হবে না। কারণ এ ঔষধগুলো পাকস্থলিতে পৌঁছানোর স্বাভাবিক পথ দিয়ে পাকস্থলিতে প্রবেশ করেনি। বরং শিরা বা মাংস দিয়ে প্রবেশ করেছে। (ফাতহুল কাদীর ২/২৫৭; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫; আলাতে জাদীদা কে শরয়ী আহকাম, পৃ: ১৫৩)
২.রোযা অবস্থায় টুথপেস্ট, পাউডার বা মাজন দিয়ে ব্রাশ করার দ্বারা রোযা নষ্ট না হলেও তা মাকরুহ। আর পেস্ট বা মাজন গলার ভেতরে চলে গেলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। তাই রোযা অবস্থায় এ গুলো ব্যবহার করা যাবে না। (ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১৪১; জাওয়াহিরুল ফিকহ ৩/৫১৮)
৩.রক্ত দেওয়া (ইষড়ড়ফ ফড়হধঃরড়হ): প্রয়োজনে কাউকে রক্ত দেওয়া বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে অথবা ডায়বেটিস পরীক্ষা করার জন্য আঙ্গুলে পিন ফুটিয়ে রক্ত বের করলে রোযা নষ্ট হবে না। তবে এ পরিমান রক্ত দেওয়া মাকরুহ যার কারণে শরীর অধিক দুর্বল হয়ে পরে রোযা রাখতে কষ্ট হয়। এমন হলে তার জন্য রক্ত দেওয়া উচিত নয়। (সহীহ বুখারী, হা. ১৯৩৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; মাজমাউল আনহুর ১/৩৬০)
৪.সুরমা ব্যবহার করলে বা ড্রপের মাধ্যমে চোখে ঔষধ নিলে রোযা নষ্ট হবে না। কেননা চোখ থেকে পাকস্থলিতে ঔষধ পৌঁছানোর স্বাভাবিক কোন রাস্তা নেই; যদিও চোখে ঔষধ নিলে গলায় তার স্বাদ অনুভব হয়। (সুনানে আবু দাউদ ১/৩২৩; তাতারখানিয়া ৩/৩৭৯; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫)
৫.নাইট্রোগিলিসারিন(ঘরঃৎড়মষুপবৎরহ): হৃদরোগ জনিত সমস্যায় রক্তের সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে ও স্ট্রক রোধ করার লক্ষ্যে জিহ্বার নিচে স্প্রে করে এ মেডিসিন নেওয়া হয়। অভিজ্ঞ ডাক্তার থেকে জানা গেছে, উক্ত ঔষধ জিহ্বার নিচে থেকে সূক্ষ্ম শিরার মধ্য দিয়ে রক্তে মিশে যায়। যেহেতু ঔষধটি পাকস্থলিতে পৌঁছায় না, তাই এতে রোযা নষ্ট হবে না। তবে যদি ঔষধটি নেওয়ার পর কন্ঠনালীতে চলে যায় তাহলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। (রদ্দুল মুহতার ৩/৩৬৭; বায্যাযিয়া ৪/১০০; আলবাহরুর রায়েক ২/৪৯৭; কিতাবুন নাওয়াযিল ৬/৩৮৫)
৬.আল্ট্রাসনোগ্রাম (টষঃৎধংড়হড়মৎধস) এই পরীক্ষা করতে যে ঔষধ বা মেশিন ব্যবহার করা হয়, তা চামড়ার উপরে থাকে এবং পেটে কোন কিছু প্রবেশ করে না। তাই এর দ্বারা রোযা ভাঙ্গবে না।
৭.এনজিওগ্রাম(অহমরড়মৎধস): উরুর গোড়ার দিকের কোন এক স্থান কেটে বিশেষ শিরার মধ্যে ক্যাথেটার ঢুকিয়ে হার্ট ব্লক আছে কি না তা জানার জন্য যে পরীক্ষা করা হয়, তাকে এনজিওগ্রাম বলা হয়। উক্ত ক্যাথেটারে ঔষধ লাগানো থাক বা না থাক, রোযা ভঙ্গ হবে না। কারণ ক্যাথেটারটি পাকস্থলিতে পৌঁছায়নি। আর রোযা নষ্ট হয় কোন কিছু স্বাভাবিক রাস্তা দিয়ে পাকস্থলিতে পৌঁছানোর কারণেই। (শরহে মুহায্যাব ৫/৩৪)
৮.ডায়ালাইসিস (উরধষুংরং): কিডনি জনিত রোগের কারণে যদি কারো শরীরের রক্ত দূষিত হয়ে যায় তখন রক্তকে দূষণ মুক্ত করার জন্য ডায়ালাইসিস দেওয়া হয়। ডায়ালাইসিস মেশিনের মাধ্যমে এক রগ থেকে রক্ত বের করে তা পরিশোধন করে অপর পাশ দিয়ে রক্ত প্রবেশ করানো হয়। যেহেতু এই চিকিৎসার মধ্যে পাকস্থলিতে কোন কিছু প্রবেশ করে না তাই রোযা নষ্ট হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪৩; ফাতাওয়া কাসেমিয়া ১১/৪৯১)
৯.সিস্টোসকপি (ঈুংঃড়ংপড়ঢ়ু): প্রসাবের রাস্তা দিয়ে ক্যাথাটার প্রবেশ করে যে পরীক্ষা করা হয় তাকে সিস্টোসকপি বলে। এতে রোযা ভাঙ্গবে না। কারণ পেসাবের রাস্তায় কোন কিছু প্রবেশ করলে তা পাকস্থলিতে পৌঁছায় না। (হিন্দিয়া ১/২০৪; কিতাবুন নাওয়াযিল ৬/৩৮৪)
১০.নকল দাঁত মুখে রাখলে রোযা ভাঙ্গবেনা। (রদ্দল মুহতার ৩/৩৬৭; বায্যাযিয়া ৪/১০০; আলবাহরুর রায়েক ২/৪৯৭)
১১.দাঁত তোলা:
প্রয়োজনে রোযা অবস্থায় দাঁত তোলা যাবে। তবে ঔষধ বা থুথুর চেয়ে পরিমান বেশি বা থুথুর সমপরিমান রক্ত যদি গলার ভেতর প্রবেশ করে তাহলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। (হিন্দিয়া ১/২৬৬; খানিয়া ১/২০৮)
লেখক:মুহাদ্দিস,লেখক,অনুবাদক
hasanmoradcd@gmail.com

আপনার সামাজিক মিডিয়ায় এই পোস্ট শেয়ার করুন

Advertisement

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2024